অবৈধভাবে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্যে বাঁধ নির্মাণঃ নীরব কর্তৃপক্ষ

92

নুরুল হুদা, টেকনাফঃ

মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যূত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য টেকনাফের স্থানীয় জনগণের নানাবিধ ভোগান্তির পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃিতিক পরিবেশ।রোহিঙ্গাদের বসতির জন্য টেকনাফের বনভূমি এখন প্রায় ধ্বংসের ধারপ্রান্তে। এ বনভূমি ও পাহাড় নিধন থেমে নেই।

মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে হাজার হাজার একর বনভূমির গাছপালা উজাড় করে এমনিতে টেকনাফের পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে। সেইখানে অবশিষ্ট বনভূমি ও পাহাড় টুকু রক্ষায়ও বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।
উপরন্তু অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও এনজিওর যোগসাজশে বনভূমি উজাড় ও পাহাড় কর্তন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গরীব কৃষকদের পাহাড়ি জমিতে পান চাষ, ফলজ ও বনজ গাছের বাগান বন বিভাগ কর্তৃক বনভূমি উদ্ধারের নামে নির্বিচারে কর্তন পূর্বক স্থানীয় কৃষকদের উচ্ছেদ করলেও এনজিও কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জন্য বনভূমি ন্যাড়া করণ ও পাহাড় কাটার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন চোখ থাকতে অন্ধ!
এবিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে জন্ম দিচ্ছে চাঁপা ক্ষোভ।

এহেন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে এনজিও সংস্থা এনজিও ফোরামের অর্থায়নে জাদিমুড়ার জাদি খাল, বিজিবি খাল ও মুছনি খালের উৎপত্তিস্থল পাহাড়ি ঝর্ণার মুখ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে গহীন পাহাড়ে নির্মীত হচ্ছে ৩টি বড় বাঁধ। ফলে একদিকে বাঁধাগ্রস্থ হতে যাচ্ছে উপরোক্ত ৩টি খালের পানি প্রবাহ। অপরদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে ঐ ৩টি খালের পানির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার রয়েছে সমূহ সম্ভাবনা। তাছাড়া এসব বাঁধের মাটির জন্য নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়।

স্থানীয় সচেতন মহল কর্তৃক অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাদিমুড়ার জাদী খাল ও বিজিবি খালে উৎপত্তি মুখের গহীন পাহাড়ের ভিতর ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক পাহাড় কেটে বাঁধ তৈরি কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি অবগত নন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মারফত আপত্তির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।

এব্যাপারে টেকনাফ রেঞ্জের কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমানেনর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরবরাহের বিষয়টি আমি আসার পূর্ব থেকে চলমান। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহের জন্য শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ হলেও বর্ষায় তা ভেঙ্গে ফেলা হয় বলে জানি। গত উপজেলা মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। পাহাড়ের মাটি কাটার বিষয়টি সত্য হলে আমি যথাসম্ভব দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here