অসহায় লবণচাষিদের পাশে দাঁড়ালেন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মুন্না!

163

মোঃ শেখ রাসেল, টেকনাফঃ

গত মৌসুমেও দিগন্তজোড়া মাঠে লবণ উৎপাদনে ধুম পড়েছিল। কিন্তু এবার খাঁ খাঁ করছে চিরচেনা সেই লবণ মাঠ।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজর পাড়া ৫নং ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিনের লবণ মাঠ। লবণ চাষ বেশি হলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে শ্রমিকের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণে লবণ উত্তোলন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গিয়াস উদ্দিনের মত অনেক লবণ চাষি।

এহেন পরিস্থিতিতে অসহায় কৃষক ও চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় দলবেঁধে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটা থেকে শুরু করে লবণের মাঠে লবণ উত্তোলনে ছাত্রলীগের কর্মীরা শ্রমিকের মত কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১লা মে) সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজর পাড়া এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিন নামে এক লবণ চাষির লবণ উত্তোলনে সহায়তা করেন উপজেলা ছাত্রলীগ।

জানা যায়, রাতে বৃষ্টির আশঙ্কা আর শ্রমিক সংকট হওয়ায় চাষী গিয়াস উদ্দিন দ্বারস্থ হয় কানজর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস এর। ছাত্রলীগ নেতা ইউনুছ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্নাকে জানালে মুন্নার নির্দেশক্রমে স্থানীয় লবণ চাষি গিয়াস উদ্দিনের লবণের মাঠে কানজর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস এর নেতৃত্ব ২০/৩০ জন ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ে কাজে নেমে পড়ে। এ সময় তাঁরা প্রায় ৪০ মন লবণ স্বেচ্ছাশ্রমে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এদিকে শ্রমিকবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছাত্রলীগের জন্য নতুন কিছু নয় বলে মনে করেন দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।

লবণ চাষি গিয়াস উদ্দিন জানান, ‘চলমান লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট ও রাতে বৃষ্টির আশঙ্কায় বড় বিপাকে ছিলাম। অন্যদিকে বাজারে লবণ এর নিম্ন দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায়! এ অবস্থায় ছাত্রলীগের ছেলেদের এ সহায়তা সারাজীবন মনে থাকবে।

এছাড়া তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বাজারে আয়োডিন মিশ্রিত লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকায়। অথচ মাঠপর্যায়ে এক কেজি লবণের দাম মাত্র ৪ টাকার মতো। সিন্ডিকেটের পকেটে লাভ ঢুকলেও বঞ্চিত হয় আমরা চাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও দাম পাচ্ছি না। মাঠ থেকে এক কেজি লবণ উৎপাদন খরচ পড়ছে সাড়ে ৬ টাকা। তাই লবণ বিক্রিতে ন্যায্য মূল্য পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণার পর সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক লবণ চাষী ও কৃষক সহ শ্রমিক সংকটে পড়েন।এদিকে বাজারে লবণের দাম কম পাওয়ায় চাষীরা বিপাকে রয়েছেন। তাই করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের অভিভাবক কৃষিবান্ধব নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গতবারের ন্যায় এবারও সংকটময় মুহূর্তে অসহায় চাষী ও কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রাণাক্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here