ইয়াবা পাচারকারী কুবাইব গ্রেফতার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে প্রকৃত মালিক বাবুল!

405

নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপান্তর:

টেকনাফ পুরাতন পল্লান পাড়ার আক্তার ফারুক ওরফে বাবুল এর ইয়াবা নিয়ে কুবাইব নামে এক যুবক যাত্রাবাড়ী ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিনব কায়েদায় পায়ুপথে ইয়াবা পাচারকালে ঢাকা যাত্রাবাড়ী পুলিশ বক্সের তল্লাশিতে ১ হাজার পিস ইয়াবা সহ তাকে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত কুবাইব টেকনাফ পৌরসভার পশ্চিম ইসলামাবাদ ৪নং ওয়ার্ডের মাওলানা মুহাম্মদ শরীফের ছেলে। তার পিতা স্থানীয় ‘কুয়েত মসজিদ’ এর পেশ ইমাম!

এদিকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে নিজের নাম শফিক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় লোকজন এতে ভিন্ন মত পোষণ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন লোক বলেন, “তার আসল নাম  কুবাইব। আমরা তাকে ছোটবেলা থেকে চিনি এবং তার বাবা মসজিদের ইমাম”।

মূলত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কুবাইবের ইয়াবা পাচারের বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু পাচারকারীকে বিভিন্ন ভাবে তল্লাশি করলেও আটক করতে ব্যর্থ হয়েছে ৬-৭ বার। কারণ পাচারকারী বিশেষ কৌশলে কন্ডম এর মাধ্যমে পায়ুপথে ইয়াবা পাচার করত। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং পায়ুপথে রাখা ১হাজার ইয়াবাও জব্দ করে।

পুলিশের কাছে কুবাইবের দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়,  এ কৌশলে সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। সে প্রতি ট্রিপে ইয়াবার মূল মালিকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত বলে দাবি করেন।

 

এদিকে কুবাইব ওরফে শফিক পুলিশের কাছে ইয়াবার প্রকৃত মালিকের নাম বাবুল বলে দাবি করেন। রূপান্তর টিম সেই সূত্র ধরে বাবুলের অনুসন্ধানে নামে। কে এই বাবুল? শুরুতে বাবুলের খোঁজ পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। অবশেষে টিম রূপান্তর ইয়াবার প্রকৃত মালিক বাবুলের সন্ধান পায়। এখানেও নামের বিকৃতি! অবশেষে ইয়াবার প্রকৃত মালিক পুরাতন পল্লান পাড়ার আক্তার ফারুক ওরফে বাবুল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে বাবুল নিজের ইয়াবা নিজেই পাচার করতেন। প্রায় ১ বছর পূর্বে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে করে যাত্রীবেশে ইয়াবা পাচারকালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয় বাবুল। প্রায় ৬-৭ মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিন বের হয়। কথায় আছে- ‘কুকুরের লেজ কখনো হয়না সোজা’! বাবুলের বেলায়ও ঠিক তাই। পুরনো অভ্যেস ছাড়তে না পারলেও কৌশল পরিবর্তন করে আবারও শুরু করেন ইয়াবা ব্যবসা। জেল থেকে বের হয়ে অন্যের মাধ্যমে পাচার করা শুরু করে ইয়াবা।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, “বাবুল এলাকায় খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবার বড় বড় চালান পাঠায়। ইয়াবার টাকায় নামে-বেনামে জমি ক্রয় করেছে সে। সম্প্রতি আরো একটি জমি ক্রয় করে সেখানে বাড়িও নির্মাণ করেছে বাবুল”।

এদিকে আক্তার ফারুক ওরফে বাবুল ও তার পিতা বৈধ কিছু ব্যবসার (ফিশিং বোট, দোকান ভাড়া) আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল  বলে দাবি করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

অন্যদিকে সচেতন মহল দাবি করছেন, পাচারকারী’রা আটক হলেও ইয়াবার প্রকৃত মালিক’রা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়। যার দরুন ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই সচেতন মহল দাবি তুলেন, পাচারকারী’র সাথে সাথে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ইয়াবার প্রকৃত মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। পাচারকারী কুবাইবের পাশাপাশি প্রকৃত মালিক আক্তার ফারুক ওরফে বাবুলকেও আইনের আওতায় আনা হোক- এটাই তাদের প্রত্যাশা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here