কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিতদের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

88

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অবশেষে প্রতিক্ষার পর গতকাল সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। একই সাথে পূর্বের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

দীর্ঘ বছর পর নতুন কমিটি হওয়ায় অধিকাংশের মনে আশার সঞ্চার করলেও সন্মেলন বিহীন কমিটি ঘোষণায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পূর্বের কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এবং এই অসন্তোষের কারণেই কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি/ সম্পাদক বরাবর খোলা চিঠি লিখার পাশাপাশি ঘোষিত কমিটি বয়কটেরও ঘোষণা দেন জেলার এ দুই নেতা।

সোমবার (২ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল প্যাডে নতুন কমিটি অনুমোদন দেন।

নবগঠিত কমিটিতে জেলা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মারুফ আদনানকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে সভাপতি ও ইমরুল হাসান রাশেদকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, গঠনতন্ত্র মতে মোর্শেদ হোসেন তানিমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৫ সাল পরবর্তী কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হলে কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েক দফা সন্মেলন করার তাগাদা দেয়া হলেও সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বরাত দিয়ে জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের সম্মতিতে একান্ত ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব যারা তাদের হাতেই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নতুন করে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, সংগঠনের যোগ্যরা যেনো পদবঞ্চিত না হয় বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের কমিটির পদ পরিধি একটু বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির একটি দায়িত্বশীল সূত্রকে নতুন কমিটিকে পকেট কমিটি দাবী করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তদারকিতে চলে। সুতরাং এসব করার কোন সুযোগ নেই। ইশতিয়াক ও তানিমের অনুগত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটি চরম অসন্তোষ। তাদের এমন কর্মকান্ডের সুযোগ বন্ধ করে দিতেই তাদের মনোনীত কাউকে কমিটির শীর্ষ পদে স্থান দেয়া হয়নি।

  1. এদিকে, সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানিম জানান, সম্মেলন ব্যতীত কমিটি চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ দিন ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত আছি, শেষ লগ্নে এসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সন্মানজনকভাবে বিদায় আশা করি।

অপরদিকে, সন্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবীতে সোমবার রাতেই সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন পূর্বের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইবনে হোসাইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here