কলেজছাত্র রানা ও মাদক সিন্ডিকেটের জামালিদা মাদকসহ গ্রেপ্তার:বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

146

নিজস্ব প্রতিবেদক:
র‍্যাব-১৫ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার আনুমানিক ২:৪৫ মিনিটের দিকে টেকনাফের দক্ষিণ লেঙ্গুরবিল সাকিনের মাঠ পাড়া মোড়ের মোঃ জাহিদ হোসেনের দোকানের সামনে মাদকদ্রব্য (ইয়াবা ট্যাবলেট) ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল মাদক ব্যাপারী’রা। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ দল এক নারী ও যুবককে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে আটক করে। আটককৃতদের তল্লাশী করে হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগে ২০ হাজার ১০ পিস ইয়াবা, কিছু নগদ টাকা, ছোট বড় পাঁচটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি এনআইডি কার্ড জব্দ করে র‍্যাব।
আটককৃতরা হলেন- মোঃ ফয়েজুল ইসলাম ওরফে রানা (২৬), পিতা: মোঃ হাফেজ আহম্মদ, সাং-নাইট্যংপাড়া, ওয়ার্ড নং-১; জামালিদা ওরফে মিয়ানি (২৫), পিতা: মৃত নুরুল ইসলাম, স্বামী: শাহনেওয়াজ, মাতা: শাহজান বেগম, সাং- উত্তর গুদারবিল, ওয়ার্ড নং-০৬! উভয় টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

উল্লেখিত তথ্যের বাইরেও রুপান্তরের অনুসন্ধানে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

আটককৃত জামালিদা ওরফে মিয়ানির পৈতৃক বাড়ি টেকনাফ সদরের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর লেংগুরবিল গ্রামে। মূলত জামালিদার বড় বোন শামসুন্নাহার সহ ভাইয়েরা মিলে পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যেত বলে জানা যায়। তন্মধ্যে শামসুন্নাহারের ভাই ফিরোজ অন্যতম।
ফিরোজ উত্তর লেঙ্গুরবিল সুফিয়া মার্কেটের সম্মুখে রাস্তার মাথায় এক ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাসের পাশাপাশি ইয়াবার দেন-কারবার চালিয়ে যায়। যেখানে প্রতিনিয়ত অনেক পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ব্যাপারীদের রাত-দিন আনাগোনা লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, শামসুন্নাহারের স্বামী মুন্না ওরফে ডাকাত মুন্না নামে এলাকায় পরিচিত। ডাকাত মুন্না ৩-৪ বছর পূর্বেও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে স্ত্রীর হাত ধরে দক্ষিণ লেংগুরবিল নিজ বাড়িতে গাঁজা, ইয়াবা সহ অন্যান্য মাদক বিক্রির সাথে জড়িয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, ডাকাত মুন্না গত ২ বছর আগে মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ব্যাপারেও স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন।

মূলত শামসুন্নাহার, স্বামী মুন্না ও ভাই ফিরোজ মিলে মায়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানি করে এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দিব্যি পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা বিক্রি করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়েজুল ইসলাম ওরফে রানা নতুনভাবে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। র‍্যাবের হাতে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হওয়া রানা একসময় সাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পাশাপাশি টেকনাফের সাংবাদিকদের একাংশের সংগঠন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামেরও এক সময়ের সদস্য ছিলেন মর্মে আইডি কার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, ছেলেটি অভাবের তাড়নায় কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার মানুষ জানায়, “রানা ও জামালিদা মূলত পাচারকার্যে জড়িত। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁদের দাবি, এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা- শামসুন্নাহার, ডাকাত মুন্না ও খুচরা ব্যাপারী ফিরোজ গ্রেপ্তার হলে এলাকায় ইয়াবার আধিপত্য অনেকাংশে কমে আসবে”।

পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহল আক্ষেপের সুরে বলেন, “সাংবাদিকতার মতো পবিত্র ও সাহসী পেশাটাতেও এখন কলঙ্কের চিহ্ন এঁকে দিয়েছে । বিশেষ করে, টেকনাফে সাংবাদিকতার আড়ালে অনেকে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, অনেকে দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে, অনেকে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধ ইয়াবা ব্যবসার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা তথা শেল্টারদাতা হিসেবে এজেন্টের ভূমিকা পালন করছে, অনেকে গোপনে মাদক ব্যাপারীদের মদদ’দাতা হিসেবে কাজ করছে, অনেকে প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হওয়া ইয়াবা ব্যাপারীদেরকে প্রশাসনের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিতে কিংবা মামলার এজাহারে ‘রিকভারী’ কম দিতে সোর্স হিসেবে কাজ করছে- যা এতদ অঞ্চলের জন্যে খুবই অশনিসংকেত”! অচিরেই এর লাগাম টেনে ধরা সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here