ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে সর্বদক্ষিণের জনপদ!

581

একসময় রঙ বেরঙের পসরা সাজিয়ে শান্তি বিকিকিনি হতো গ্রামীণ এ মেঠোপথে। এক পশলা শান্তির জন্য মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এ লীলাভূমিতে। এই তো বছর দশেক আগেও এখানকার মানুষগুলো চৈত্রের রাত্রিবেলায় ঘরের দরজা জানালা খোলা রেখে উদলা গায়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যেতো, একে অপরের প্রতি বিশ্বাসশক্তি ছিলো অত্যন্ত প্রবল। আতিথেয়তা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানে টেকনাফ-উখিয়া তথা কক্সবাজারের মানুষের সুনামও বিশ্বজোড়া। কষ্টকর হলেও সত্যি আয়েশের এ জনপদ এখন ভুতুড়ে নগরী, সম্প্রতি মানুষে মানুষে রেষারেষি, অর্থের দম্ভ, পেশিশক্তির প্রভাব এখানে চরমাকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামতেই হৈ হুল্লোড় বাজার ও পাড়া-মহল্লায় সুনসান নিরবতা, রাত পেরোলে বন-বাদাড়ে, মাঠে-ঘাটে পড়ে থাকছে স্বজনের কয়খানা লাশ। এলাকার মানুষজন প্রকট অনিশ্চয়তা ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এক অদ্ভুত সময় পার করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মানবতার কেতন উড়িয়ে মৃত্যুর দুয়ার থে‌কে ফিরে আসা যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে আমরা মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছি, তাদেরকে স্থানীয় কিছু মাথামোটা মানুষ শক্তিমত্তা প্রদর্শনীর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে নিশ্চিন্তে। সত্যি বলতে কী, হাজার দশেক টাকায় দুচারটে লাশ ফেলে দেওয়া তাদের জন্য একেবারে মামুলি ব্যপার । জনশ্রুতি আছে অনেকে নিরাপত্তার খাতিরে বডিগার্ড হিসেবেও তাদের নিয়োগ প্রদান করছে , নেতাকেতা কর্তৃক বিভিন্ন নির্বাচনেও এদের বিনিয়োগ চোখে পড়ার মতোন। বিলিভ অর নট এরই মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের কতো বড়ো ক্ষতি করে চলেছি একটি গ্রাফ বা বিশ্লেষণ দেখালে সবার চোখ আঁতকে উঠবে। আজকে লুঙি, থামি-ব্লাউজ পরা খাপছাড়া যে রোহিঙ্গাগুলোকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে দেখছি, তাদের ভেতরে অসংখ্য ইনটেলিজেন্স মিশনারি, কতশত স্পাই ঘাপটি মেরে বসে আছে আমাদের সকলেরই চিন্তাসীমার বাইরে। এই যে হপ্তাহান্তে ৮-১০ রোহিঙ্গা মারা পড়েছে, আমাদের নিরীহ ভাই নুরুল হুদাকে হত্যা করলো। দায়িত্ব নিয়ে বলছি সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও ক্লিপসহ সেগুলো তারা জায়গা বরাবর পৌঁছে দিচ্ছে সবার অলক্ষ্যে। তারা প্রতিনিয়তই তাদের হর্তাকর্তাদের ইনসিকিউরিটির বিষয়টি নালিশ করে চলে‌ছে, এমনকি তাদের ভেতরে একটি বিশাল ইউনিট কেবল এটি নিয়ে কাজ করছে। আমি আশঙ্কা করছি এ ইস্যুটিকে বগলদাবা করে কর্তাবাবুরা আমাদের সরকারকে নিকট ভবিষ্যতে আবদার করে বসবে, দেখুন আপনারা তো তাদের ভালোভাবে দেখভাল করতে পারছেন না, তারচেয়ে বরং আমাদের কিছু সৈন্যসামন্ত আপনাদের সাথে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করুক এবং তাদের জীবননির্বাহ ভীতিমুক্ত রাখতে সচেষ্ট থাকুক। আল্লাহ না করুক যদি কোনভাবে এমনটি হয়ে যায়, তাহ‌লে আজীবনের জন্য কিচ্ছা খতম! এ লোমহর্ষক বিষয়টি আমরা স্থানীয় জনগণ ও রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে এ্যাড্রেস করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে নাফের জলে আত্নাহুতি দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। আমাদের টেকনাফ উখিয়ায় বহু জাঁদরেল ও অসংখ্য মৌসুমী নেতা রয়েছেন, নির্বাচনের বছর দুয়েক আগে ইদে-পরবে, পূজা-পার্বণে যাদের মুখমণ্ডলে গাছ, বাঁশ, দেয়াল, খাম্বা নানা রঙে ছেঁয়ে যায়, তারা এ বিষয়টি একটু খাসমনে মাথায় নিলেতো হয়!

এরপরও চলুন সকলে এগিয়ে এসে চোখকান খোলা রেখে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সহায়তা করি।

 

এহ্সান উদ্দিন, প্রভাষক, কক্সবাজার সিটি কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here