জো বাইডেনের রাজনৈতিক জীবন

126

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবন জো বাইডেনের। হোয়াইট হাউসে যাবার যে স্বপ্ন বহুদিন থেকে লালন করে আসছেন, সেই স্বপ্নের পথ এখন লড়াইয়ে লিপ্ত!

১৯৮৭ সালে একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে নামেন। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি অন্যের লেখা চুরি করে নিজর নামে চালিয়েছেন! এই অভিযোগের সূত্র ধরে আরেকটা অভিযোগ সামনে আনা হয়। ছাত্র জীবনের একটি ঘটনা, যখন তিনি আইনের ছাত্র হিসাবে তার সাইটেশন পেপারে আরেকজনের লেখা হুবহু ব্যবহার করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, সেটা যে নিয়ম বহির্ভূত তা তিনি জানতেন না।

এমন অসততার অভিযোগ আনা হলে তিনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন!

পরে তার এক জীবনীকারকে মি. বাইডেন বলেছিলেন, ওই ঘটনা তাকে “কুরে কুরে খেয়েছে। নিজেকে আমি চিরকাল একজন সৎ মানুষ হিসাবে মনে করেছি। সেই জায়গাটা বিরাট ধাক্কা খেয়েছে।”

আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “এর জন্য দায়ী আমি নিজে। নিজের ওপর রাগ আর হতাশায় ভুগছি। আমেরিকার মানুষকে আমি কীভাবে বোঝাবো এটাই জো বাইডেনের আসল পরিচয় নয়। এটা শুধু আমার মস্ত একটা ভুল”!

এরপর স্বজন হারানো, স্ত্রী-পুত্রবিয়োগ, নিজের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সহ নানা সংকটে আর ২০ বছর নিজের সঙ্গে সংগ্রাম করেন বাইডেন। এর মাঝে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন তার থেকে বয়সে কনিষ্ঠ অনেকে, যেমন- বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও ট্রাম্প!

২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে নামেন। তবে বারাক ওবামার সঙ্গে পেরে উঠেননি। যদিও ওবামার তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে নেন। ফের ২০১৬ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাননি, হিলারির কাছে হেরে যান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কিন্তু হাল ছাড়েননি জো বাইডেন! তার স্বপ্ন ছিলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। অবশেষে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন লাভ করেন। সেখানেও অনিশ্চয়তা ছিলো। পেতে পেতেই যেন হেরে যাচ্ছিলেন। তবে একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মনোনয়ন পান।

এমনই হাল না ছাড়া মানুষ জো বাইডেন। তার জীবনী পড়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছি! মানুষ তার স্বপ্ন কীভাবে লালন করতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন।

জো বাইডেন প্রায়ই একটা কথা বলেন, “বাবার একটা কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা – কে তোমাকে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সেটা বড় কথা নয়, কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসাবে সেটাই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।”

এমন সংগ্রামমুখর যার জীবন, এমন সুন্দর কথা যিনি বলেন, তার হওয়া উচিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু পৃথিবীর দুর্ভাগ্য যে, সারা বিশ্ব এখন প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিকদের দখলে। যে পৃথিবীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, শিন জিনপিং, নরেন্দ্র মোদি, কিম জং, নেতানিয়াহু, ম্যাক্রোরা শাসন করছেন, সেখানে হয়তো বাইডেন বেমানান। কিন্তু পৃথিবীর উচিত বাইডেন-ট্রুডোদের দিকে ধাবিত হওয়া। পৃথিবীর প্রকৃতি হলো উদারতার, সনশীলতার ও নম্রতার!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here