টেকনাফে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারি’রা!

116

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার গডফাদাররা অন্ধকার জগত পরিহার করে আলোর পথে তথা ইয়াবা ব্যবসা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন জীবনে ফিরে আসতে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফায় ১২৩ জন আত্মসমর্পণ করেছিল। পরবর্তীতে তারা আদালত কর্তৃক জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। জামিনে বের হওয়ার পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাদের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রা তথা চলাফেরা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছিল- সত্যি কি তারা এত অল্পতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে নাকি পুরোদমে ফের ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাবে?বর্তমানে তাদের কৃত কর্মকান্ড ঠিকই সেই উদ্বেগ ও শঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করতে শুরু করেছে।

বিগত রবিবার (২৩ মে ২১খ্রি:) টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে হ্নীলা ইউপিস্থ রঙ্গীখালী ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার ইয়াবাডন জামাল হোসাইনের পুত্র আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী শাহ আজম ১০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। সে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুরো টেকনাফ জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, যেটি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তাছাড়া ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৯খ্রি: তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট জামাল মেম্বার এবং তার পুত্র শাহ আজম একই সাথে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পন করেছিল। সম্প্রতি পিতা পুত্র জামিনে বের হয়ে ফের জমজমাট ভাবে ইয়াবা ব্যবসা চলিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে তারা কোনোভাবেই ইয়াবা ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে নারাজ বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।

সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে জামাল মেম্বার এবং তার পুত্র শাহ আজম মিলে পবিত্র রমজানে ১লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা মিয়ানমান থেকে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে রঙ্গীখালী এনেছেন বলে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং সেই ইয়াবাগুলো বিক্রি করতে গিয়ে শাহ আজম পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কথিত জামাল মেম্বার বলেন,  “তিনি নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ায় তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এদিকে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন বলেও জানায়”।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের এক মহিলা সদস্য জানান, “জামাল মেম্বার ফের পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয় রয়েছেন”।

হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, “তাদের চলাফেরা অনেক অস্বাভাবিক; তবে ইয়াবা ব্যবসায় বর্তমানে জড়িত কিনা সে বিষয়ে আমি অবগত নয়। যদি এখনো এসবে সম্পৃক্ত থাকে আশা করি তাদেরকে কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত খুব বাজেভাবে দিতে হবে”।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর জানান, “আত্মসমর্পনকারী ইয়াবা কারবারি’রা এখন পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে নিজের প্রাণ বাঁচাতে আত্মসমর্পণ নাটকের একটা কৌশল অবলম্বন করেছিল তারা”।

তিনি আরো বলেন, “আত্মসমর্পন কারীরা জেলখানায় বসে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিল বলেও শুনা গিয়েছিল। বের হয়ে আরো জমজমাটভাবে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে। শুধুমাত্র পাচারের কৌশলটা পরিবর্তন করেছে”। এদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার (ওসি অপারেশন) খুরশিদ আলম আটককৃত ইয়াবাডন আজম প্রসঙ্গে জানান, “পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তার ব্যাপারে। পুলিশ কারো শত্রু নয়, পুলিশ জনগণের বন্ধু”। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো ট্রলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হাফিজুর রহমান জানান, “আজ হোক কাল মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের আওতায় আসবে। আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারীদের প্রতি পুলিশের কঠোর নজরদারী রয়েছে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here