বহিরাগতদের দখলে এনজিওগুলো; হচ্ছেনা স্থানীয়দের চাকরি!

85

অজুহাতের বেড়াজালে আটক স্থানীয় শিক্ষিত যুবকেরা!

সাইফুদ্দীন আল মোবারক, টেকনাফ ::
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দেশি বিদেশি শতাধিক এনজিও সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এসব এনিজওগুলো স্থানীয় যুবকদের অজুহাতের বেড়াজালে আটকে রেখে বাহিরের বিভিন্ন জেলার লোকদের চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে ।স্থানীয়দের চাষাবাদের জমিগুলো রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাওয়াতে অতিরিক্ত কষ্টে বসবাস করছে উখিয়া টেকনাফের মানুষ।এনজিওগুলোতে চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রধান্য দেয়ার কথা থাকলেও প্রতারণা মূলক এনজিও গুলো মানছেনা এসব নিয়মনীতি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত এনজিও গুলোতে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকরা চাকরি না পেয়ে বেকার জীবন-যাপন করছেন ।
অনেক সময় স্থানীয় শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা এনজিওগুলোর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির আশায় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ঠিকানায় জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা করলেও,বিভিন্ন অজুহাতে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের চাকরির সুযোগ করে দেয়া হয়।এসব এনজিওদের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতারণা শিকার হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় শিক্ষিত যুবকেরা।বারবার সিভি জমা করেও পাচ্ছেনা কোনো সুফল।চাকরির আশায় সিভি তৈরি ও যাতায়তের ক্ষেত্রে হাজার হাজার টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয়দের।অবশেষে সব ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরেও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে স্থানীয় যুবকেরা।
চাকরি প্রত্যাশী যুবকেরা জানান,এনজিদের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেকে ২-৩শ টাকা দিয়ে সিভি তৈরি করে তাদের অফিসের ঠিকানায় জমা দিতে গিয়ে এক দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এভাবেই অনেকবার সিভি জমা দিতে গিয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা করেছে, তারপরেও একটা চাকরির সুযোগ পায়নি।
কিছু এনজিওর কর্মকর্তাদের লুটপাট ও চাকরির সুবাদে মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে ।স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ দিলে তাদের অবৈধ কার্যকলাপ চালাতে পারবে না, সেই ভয়ে স্থানীয় যুবকদের চাকরির সুযোগ দিচ্ছেনা বলেও ধারণা করছেন অনেকে।
জানা যায়,
দুর দুরান্ত থেকে আগত এনজিও কর্মীদের মধ্যে কিছু লোক চাকরির সুবাদে বাসা বাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে জুটি বেঁধে অবৈধ মেলামেশা করে আসছে । এসব এনজিও কর্মীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে চাকরি করে গেলেও তাদের ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য উপাত্ত নেই প্রশাসনের কাছে। যার ফলে ঘটছে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড। এদিকে প্রশাসনের কাছে বহিরাগতদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য না থাকায় এনজিও কর্মীর বেশে উখিয়া টেকনাফে জঙ্গীরাও ঢুকে পড়ছে বলে জানা গেছে ।
রবিবার ( ৩১ মার্চ ১৯ )সন্ধ্যায় এক ভাড়া বাসা থেকে ১ জুটিকে আটক করেছিল পুলিশ । সূত্রে জানা যায়, উখিয়া সদরের হাজী পাড়া রোডের মাথায় কাজী হারুনের ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করেছিল । দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে দুজন এনজিও কর্মী বসবাস করে আসছিল ।
এদিকে শনিবার (১৪ নভেম্বর ২০) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালীস্থ এক নারী এনজিওকর্মীর বাসা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে ধরা পড়েছিল সুশীলন নামক এনজিও’র এক কর্মকর্তা। তার নাম অনিরুদ্দা সরকার।
স্থানীয় লোকজন আপত্তিকর অবস্থায় ধরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে আসলেও বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনিরদ্দা সরকার বলেন, আমাকে রাতে এক নারী এনজিওকর্মীর বাসায় পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন লোক চেয়ারম্যানের কাছে ধরে নিয়ে আসে। এভাবে অসংখ্য লোক এনজিওর চাকরির সুবাদে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে বসবাস করে আসছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা ।

কেন স্থানীয়দের এনজিওতে চাকরির সুযোগ দিচ্ছেনা জানতে চাইলে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন জানান,এনজিওরা এখানে লুটপাট করার জন্য স্থানীয়দের নিয়োগ দিচ্ছে না।নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্থানীয়দের সাথে বড় প্রতারণা করতেছে তারা ।কিছু কর্মকর্তার সাথে দুর-দুরান্ত থেকে যারা (মহিলারা ) আসে তাদের সাথে নেগেট (অবৈধ ) সম্পর্কের করণে স্থানীয় ছেলেদের রাখছে না। বিভিন্ন জেলা থেকে যে মহিলাগুলো আসে তাদের সাথে ফুর্তি করার জন্য স্থানীয় ছেলেদের নিয়োগ দেয় না।স্থানীয় ছেলেদের রাখলে তাদের (এনজিও কর্মীদের ) অবৈধ কার্যকলাপ প্রচার হয়ে যাবে ,সেই ভয়ে স্থানীয়দের রাখেনা বলেও জানান তিনি ।
হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রতিবেদককে জানান,এনজিও গুলো ‘আইওয়াশ’ করার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়, স্থানীয়দের কোনো গুরুত্বই দেয় না তারা । বিভিন্ন অজুহাতে স্থানীয়দের বাদ দেয় বলেও জানান তিনি।
গেল শনিবার (১২ই জুন ) টেকনাফ পৌরসভার এক মঞ্চে এনজিওতে স্থানীয় শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের চাকরিতে অগ্রধিকার দেয়ার দিতে আহবান জানান সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি ।একি মঞ্চে সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দীন আহমদ স্থানীয় শিক্ষিত ছেলে মেয়েকে বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করার অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here