মারোতের খাবার বিতরণ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ: অধ্যাপক সন্তোষ কুমার!

25

নিউজ ডেস্ক:

অতিমারীর কবলে পরে দেশের অতি অসহায় হতদরিদ্র অতিমাত্রায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দিনযাপন যখন অতিরিক্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তখন মানসিক রোগিদের না খেয়ে মরা ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা। এই দুর্বিসহ পথ অতিক্রম করে টেকনাফের মানসিক রোগিদের খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে যে সংগঠন কল্যাণমুখী চেতনা নিয়ে এগিয়ে এসেছে সে সংগঠনের নাম মানসিক রোগিদের তহবিল (মারোত)। ২০২০ সালে একদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ তথা মুজিব বর্ষ চলছে। এর মধ্যে হঠাৎ করে কোভিট ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও একাকার হয়ে মানুষ হলো ঘরবন্দী। কিন্তু মানসিক রোগিরা ঠিকানা বিহীন অবস্থানে দিনাতিপাত করছে। তাদের খাবার নেই।মাথার উপর ছাদ নেই। ২৫ মার্চ ২০২০ খ্রিঃ থেকে মারোতের কার্যপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে শুরু হলো টেকনাফে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৬০ জন মানসিক রোগির খাবার রান্নার এক মহকর্মযজ্ঞ।
মারোতের স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে রান্না ও বিতরণ। সে কার্যক্রম পরিচালনার
আজ ৩০০ তম দিবস। এ দীর্ঘ সময়ের পথ পরিক্রমায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রীতিময় ভালোবাসায় আবদ্ধ থেকে মারোত আজও হাঁটছে
পথ থেকে পথে। জেলাপ্রশাসক, উপজেলা প্রশাসক, স্থানীয় নেতৃত্ব, মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ,প্রবাসী, বিত্তবান নর নারী সবাই ধীরে ধীরে এসেছে মানবতার মহান ব্রত নিয়ে।তাদের নীতি ও নৈতিকতাবোধ আমাদেরকে কর্মচঞ্চলতাকে মুখরিত করে, অনুপ্রাণিত করে মারোতকে করেছে সমৃদ্ধ। মারোতের সমৃদ্ধি মানেই মানবিক মানুষের সমৃদ্ধি, শ্রীবৃদ্ধি। কক্সবাজার সহ টেকনাফে মানবনতার অনন্য একটি নাম মারোত।
এসো হাত বাড়াই, ক্ষুধা তাড়াই এ শ্লোগান কে সামনে রেখে মারোত কার্যক্রম শুরু করে অদ্যাবধি ৩৪ জন মানসিক রোগিকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সুখী সুন্দর জীবন যাপনের লক্ষ্যে যে মানুষটির জন্ম হয়েছিল, নিয়তির নির্মমতায় মানসিক রোগি হয়ে তাকে থাকতে হয়েছে ছাদহীন আকাশের নিচে।সে অবস্থা থেকে তাদেরকে পরিত্রাণ দিতে মারোতের একঝাঁক নিরলস কর্মি তাদের সময়, শ্রম, মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে মানসিক রোগিদের কল্যাণে নিবেদিত রয়েছে। এছাড়া মানসিক রোগিদের বস্ত্র, শীতবস্ত্র, চিকিৎসা, ঔষধ যোগানো,মানসিক রোগিদের দাফন সহ নানাবিধ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মারোত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বুকে লালন করে থাকে। মানুষের মানবতাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে মারোত অবিচল রয়েছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মারোত। ভালো কাজের মধ্যে নিয়োজিত থাকার সুবাদে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। ইতোমধ্যে শাহপরীরদ্বীপেও সাংগঠনিক কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৩০ জন মানসিক রোগির জন্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মারোতের প্রতিটি কর্মী বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে আনন্দ পায়। তাদের শয়নে স্বপনে,ধ্যানে, চিন্তা চেতনায় পরোপকারীতার মনোভাব ফুটে ওঠে। মানবাধিকার, মানবতা, মানবিক এই শব্দগুলো প্রতিনিয়ত তাদেরকে জাগিয়ে রাখে।ঘুমোতে দেয়না। দৈনিক একটা ভালো কাজ করতে পারলে তারা উল্লাসে নেচে উঠে। এসব মানবতাবাদীদের কল্যাণে পৃথিবী এতো সুন্দর, এতো মনোহর,এতো মনোরম। সৃষ্টি কর্তা বলেছেন ” তোমরা যদি আমার সৃষ্টিকে ভালোবাস তবেই আমাকে পাবে”।সে ক্ষেত্রে মারোতের কর্মীরা অত্যন্ত সফল। তিনশত তম দিবসে কৃতজ্ঞতা জানাই তাদেরকে , যাদের অবদানে,যাদের জয়গানে সুশীতল মারোত।আগামীতেও আপনাদের অপরিসীম সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here