যে প্রেম অক্ষয় অমর, তার নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

141

কৈশোর তারুণ্যে একজন স্বপ্নমুখর তরুণ শিক্ষার্থী তার জৈবিক মানসিক তাড়নায় প্রাকৃতিক নিয়মেই ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী চঞ্চল চপলা তরুণী তন্বীর প্রেমে হাবুডুবু খায়, স্বপ্ন দেখে, রাত জেগে আবেগাপ্লুত হয়ে চিঠি লিখে।
আমার সহপাঠীদের মধ্যে খুব বেশি মেধাবী যে ছাত্রটি সে তার পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের দিন রাত বই নিয়ে বিভিন্ন স্যারের বাসায় যেয়ে কোচিং ক্লাস করছে, যে প্রেমিক তরুণটি প্রতিদিনকার ক্লাসে খুব পরিপাটি করে ড্রেসিং করে ক্লাসে আসতো, সৌখিন হাতে থাকতো জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন, অথবা মাইকেল জ্যাকসনের ছবি প্রিন্ট করা টিশার্ট পড়তো, বিরতির সময়ে ক্যান্টিনের সবচেয়ে নিরব জায়গায় গোলাপ হাতে বসে অপেক্ষা করতো কোন লাইলীর জন্য অথবা লাইব্রেরির বইয়ের আলমিরার পেছনের টেবিলে বসে বই পড়ার ছলে কোন পার্বতীর জন্য অপেক্ষা করতো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বই খোলা রেখে নয়তো কলেজদীঘির আমতলায় পূর্নেন্দু পত্রীর কথোপকথন বই নিয়ে।

এসব কোন কিছুই আমি আমাদের জীবনে আসেনি। যে তরুণ ছাত্র রাত জেগে তার প্রেমিকার জন্য চিঠি লিখছে তখন হয়তো আমরা রাত জেগে দেয়ালে চিকা মারছি “মুজিব হত্যার পরিনাম বাংলা হবে ভিয়েতনাম “।
আমরা যখন কলেজে পড়ি তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় স্বৈরাচার লেজেহুমু এরশাদ, চারদিকে অবরোধ হরতাল, ছাত্রধর্মঘট, মিছিল পুলিশ, টিয়ারগ্যাস। কখন মনের অজান্তেই ক্লাসের অবসরে কলেজ ক্যাম্পাসে শ্লোগানমুখরিত মিছিল করছি, গগনবিদারী শ্লোগান ধরছি ” দৌলতের রক্ত বৃথা যেতে পারেনা, শিক্ষা শান্তি প্রগতি ছাত্রলীগের মূলনীতি “। এমন কতো হাজার শ্লোগানে শ্লোগানে মুজিব প্রেমে সময় গড়িয়ে গেলো টেরই পাইনি।যে প্রেম অক্ষয় অমর। আজ সেই প্রেমেরই খানিক স্মৃতি গদ্যে লিখতে বসে কতো চেনামুখ ভিড় করছে মনের ক্যাম্পাসে।
আমার পড়ার টেবিলের সামনে মুলিবাঁশের দোয়ানা বেড়ার খুঁটিতে পেরেকঠোকা একটি ছবি ঝুলে আছে, সেই ছবিজন আর কেউ নয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তারপাশে আছে তেজগাঁও বিমানবন্দর মাটিলগ্ন কান্নারত দু’হাতে মোনাজাতের একটি নারীর ছবি, সেই ছবিজন আর কেউ নয় দেশরত্ন শেখ হাসিনা, আজকের প্রধানমন্ত্রী।
যখন সন্ধ্যাবেলায় পড়ার টেবিলে বসতাম বাড়ির সামনে আরাকান সড়ক, আরাকান সড়কে চলছে মশাল মিছিল,
শ্লোগান হতো
শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে
চেতনার অগ্নিবীণা জননেত্রী শেখ হাসিনা
হটাৎ সাইরেন বাজিয়ে একদল পুলিশ লাটি হাতে তাড়া করছে মিছিলের সংগ্রামীদের,মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো, এসব আমি দেখি কাছারি ঘরে জানালা দিয়ে।
এসব দেখতে দেখতে আর মন বসতো না পড়ার টেবিলে। আমি খুব ছোট প্রাইমারি ইস্কুলে পড়ি, স্বৈরাচার খুনি জেনারেল জিয়া ক্ষমতায়,সারাদেশে ঘরোয়া রাজনীতির আবহ চলছে, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে, চকরিয়া পাইলট (সরকারি) উচ্চবিদ্যালয়ের বারান্দায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের পুনর্ঘটন সভা হলো, ঢাকা থেকে উপর্যুক্ত নেতারা এসেছিলেন, সেই মিটিং আমার মেজো সেজো দুই ভাই যোগদান করালো, উভয়ই পড়তো শাহ উমরাহবাদ উচ্চবিদ্যালয়ে।
সেই মিটিং এ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন হলো, ঐ কমিটিতে আমার সেজো ভাই জহির আলম যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করা হলো, সম্ভবত অকাল প্রয়াত সাংবাদিক সিরাজুল হক(হাজিয়ান বাড়ি) কে আহবায়ক অথবা বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সহসভাপতি রেজাউল করিম কে আহবায়ক করা হয়েছিল এখন ঠিক মনে পড়ছে না, সেদিন রাতেই আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে পুলিশ এলো, ঘুম থেকে ডেকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেলো, আমি নাকি সেদিন পুলিশ দেখে ভয়ে মুর্ছা গিয়েছিলাম। এসব কথা আমার মা ভাইদের মুখ থেকে শোনা।
তো যে কথা বলতে চেয়েছি সেই শৈশব থেকেই পুলিশ, গ্রেফতার, মিছিল মিটিং, হরতাল, পিকেটিং, শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা, কামাল -জালাল -রাসেল,আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, সিপিবি,ন্যাপ,আট দলিয় জোট দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে কখন যে মনের অজান্তেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছি নিজেই বুঝতে পারিনি।
আমার যৌবন কৈশোরে প্রেম-প্রীতি – ভালোবাসা আবেগের ধমনিতে মিশে একাকার হয়েছে নিজেরই অজান্তে তা সনতারিখ গুনে বলা সম্ভব না।
সেই প্রবিত্র আবেগ-প্রেমের অবিচ্ছেদ্য ছাত্র সংগঠন টির নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যে প্রেম শুধু কাছে টানে,আবেগে বিরহে বেদনায় জড়িয়ে ভালোবাসতে জানে কিন্তু দূরে ঠেলে দিতে জানেনা, তার কারণ এই ছাত্রসংগঠনের আছে শিক্ষা শান্তি প্রগতি তিনটি মূলনীতি।
যে সংগঠনের দার্শনিক পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর চেতনার শানিত সাংগঠনিক নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনের নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজ তার জন্মদিন। ৭৩তম জন্মদিন।
তো ছাত্রলীগের জন্মদিন এলেই ভুলে যাই না পাওয়ার বেদনা, মনে থাকেনা ফেরারি পুলিশি রিমান্ড জেলের কথা, ভাসি আবেগউচ্ছ্বাসে।
তাই আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি
“আমার তারুণ্যের প্রেমের ঠিকানা ছাত্রলীগের নিশানা”
আমার প্রেম বিরহের বেদনার ভাষা শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি
পিতা মোদের শেখ মুজিব নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা “।
বাংলাদেশের ভাষা,সাহিত্য,সংস্কৃতি স্বাধীনতা মুক্তির শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্মদিনে অফুরান ভালোবাসা প্রাণোচ্ছল শুভেচ্ছা। এই ছাত্রলীগের চরম দুর্দিনের একজন নগন্য প্রেমিক কর্মী হিসাবে ভাসছি আবেগোচ্ছাসে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

লেখক– মানিক বৈরাগী (নব্বইয়ের নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here