সরকারি মাধ্যমিকে ভর্তির লটারি ৩০ ডিসেম্বর

49

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন বছরের ভর্তির জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হবে ১৫ ডিসেম্বর থেকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর বিদ্যালয় থেকে কোনো ভর্তি ফরম বিতরণ করা হবে না। শুধুমাত্র অনলাইনে (https://gsa.teletalk.com.bd) আবেদন করা যাবে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা যাবে অনলাইন এ আবেদন। আর ৩০ ডিসেম্বর অনলাইনে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়গুলোতে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আগেই। বাকি ছিল আবেদন ও লটারির তারিখ ঘোষণা। মাউশি ১৫ ডিসেম্বর থেকে আবেদনপত্র বিতরণ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। আর বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে ৩০ ডিসেম্বর লটারির প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটাই গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।
ঢাকা মহানগরে ৩৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি শাখা ছিল। এবার জাতীয়করণ হওয়া আরও দুটি বিদ্যালয়ও যুক্ত হয়েছে। এগুলোতে মাউশির অধীন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় ভর্তির কাজটি হয়। এবারও বিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ বা গ্রুপ (এ, বি এবং সি) করে ভর্তির কাজটি করা হবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গুচ্ছের পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে। এতদিন একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী একটি গুচ্ছের একটি বিদ্যালয়কে বেছে নিতে পারত।
এ ছাড়া সারা দেশে আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। তখন প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পছন্দক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণির মতো সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিদ্যালয়গুলোতে অর্ধেক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় বসবাসরত (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। এত দিন ঢাকা মহানগরের বিদ্যালয়গুলোতে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত আশপাশের এলাকা থেকে।
এত দিন সারা দেশের স্কুলগুলোয় প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। আর নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের (জিপিএ) ভিত্তিতে। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না। তাই নবম শ্রেণিতেও জেএসসি ও জেডিসির ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here