ছাত্রলীগের ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ এখন সারাদেশে

394

রোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ দেওয়া শুরু করেছিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় তিন নেতা। প্রথমে সীমিত পরিসরে রাজধানী ঢাকায় এই সেবা চালু করেছিল তারা। এখন তাদের এই সেবা কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্যোক্তা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী (সাদী) এনটিভি অনলাইনকে বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের প্রকট কমলেও এটি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায় সেজন্য আমরা এই সেবা কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। নিজেদের উদ্যোগে আমাদের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে আমরা সেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

গত মার্চ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এটি প্রকট আকার ধারণ করে। সেই সময় অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবে অনেক মানুষ মারা যায়। ঠিক এই সময়ই মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তাঁরা এ সেবার নাম দেন ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’।

এই তিন উদ্যোক্তার মধ্যে বাকি দুজন হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।

উদ্যোক্তরা জানান, ২৫ জুন থেকে ঢাকায় চালু হলেও পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর এবং ফেনী জেলা শহরে এ সেবা চালু হয়। এরপর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলাসহ কয়েকটি জেলাতে এই সেবা চালু করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এই সেবা এখন অব্যাহত রয়েছে।

সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের যেকোনো জায়গা থেকে ফোন করলেই আমরা এই সেবা দিচ্ছি। রোগীদের থেকে আমরা ব্যাপকভাবে সাড়া পাচ্ছি। তাদের প্রয়োজন শেষ হলে তারা ঠিকমতো আমাদের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছে।

সারা দেশের মানুষ যাতে এই সেবা পায় সেজন্য উদ্যোক্তারা ফেসবুক, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেই এই প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও এখন তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৮০ জনের বেশি। এই সেবার জন্য তাঁদের ফোন দিলেই বাইকের মাধ্যমে তাঁরা তাৎক্ষণিক সেবা দিয়ে থাকেন।

উদ্যেক্তাদের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত দুই হাজারের অধিক রোগী (কোভিড, নন-কোভিড) এই সেবার আওতায় এসেছে।

তবে এই সেবা পেতে হলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। সেবা কার্যক্রমের প্রথম পর্যন্ত সেবা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখন তা বাড়ানো হয়েছে। রোগীর যত দিন প্রয়োজন তত দিন তারা সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারবে।

‘অক্সিজেন সংকটে মুমূর্ষু এমন রোগীরা আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছে। সেবা পেয়ে তারা কৃতজ্ঞতাও জানাচ্ছে। তবে এদের মধ্যে কিছু রোগী তাদের প্রয়োজন শেষ হলে সেবার নিয়ম ভঙ্গ করছে। এদের সংখ্যা এক বা দুই ভাগ। এর ফলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক সময় আশাহত হন। যদিও তাঁরা সেবা দিতে দ্বিধাবোধ করছেন না’, বলেন সাদ বিন কাদের চৌধুরী।

আরেক উদ্যোক্তা সবুর খান কলিন্স এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য অনুযায়ী এই উদ্যোগ। অক্সিজেনের অভাবে যেন কেউ মারা না যায়, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ যার যার অবস্থান থেকে সবাই এগিয়ে এলে অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here