গার্ড অব অনারে শায়িত হলেন উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামী রাজনীতির বংশীবাদক

120

ডেস্ক রিপোর্টঃ
জীবন নামক রেলগাড়ি’টার গন্তব্য ফুরিয়ে যাওয়ায় অবশেষে মহান রাব্বুল আলমীনের হুকুমে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।

শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজনীতি নামক মহাকাব্যের এই ফেরিওয়ালা।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বাদে আসর হ্নীলা দরগাহ সড়ক ও জনপদ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্মানার্থে গার্ড অব অনার প্রদান এবং নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে এই কিংবদন্তি বীরপুরুষকে।

১৯৭১সালে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবনবাজি রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রাণপণ লড়ে গিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও ধারণ করে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন তিনি। সর্বপ্রথম সীমান্ত জনপদ টেকনাফ-উখিয়ায় আওয়ামী রাজনীতির বীজ করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি এতদ অঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির বংশীবাদক। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মূর্তিমান প্রতীক। পরিসংখ্যান ও সচেতন মহলের দাবি, উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজার-৪ আসনে যে কজন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে এপর্যন্ত নেতৃত্ব, যোগ্যতা, একনিষ্ঠ দেশপ্রেমে কিংবদন্তি সাবেক সাংসদ বীরযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী অনন্য।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ক্রান্তিলগ্নে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় ঐক্য, সংহতি আদর্শের ভিত্তিতে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। এক কথায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক আইডল হয়ে থাকবেন এই বীর সেনানী। আমৃত্যু টেকনাফের আওয়ামী রাজনীতির বটবৃক্ষ হিসেবে ছায়া দিয়ে গিয়েছেন এই মহান নেতা।

সংক্ষিপ্ত জীবনে এই মহাবীর কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক, টানা ৩বারের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ১৯৯৬-২০০১ সালে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আমৃত্যু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ক্ষণজন্মা এই নিরেট মানুষটি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইলের মরহুম হাজী আমির হোছনের পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি ৩ পুত্র, ১ কন্যা ও স্ত্রী সহ অগণিত গুনগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here