মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

78

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা যুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মারা যান মওলানা ভাসানী। তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন এই নেতা। তাঁর চলে যাওয়ার দিনটি স্মরণে আজ ঢাকা এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন ভক্ত ও অনুসারীরা।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, প্রবীণ বয়সে ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লংমার্চসহ ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে রেখে গেছেন তাঁর কর্মের ছাপ। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও তাঁর জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ভাসানী রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই বামধারার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে অনেকেই সে সময় ‘লাল মওলানা’ নামেও ডাকতেন। ভাসানী ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা। সে কারণে ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের শাসকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

মওলানা ভাসানী ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান’ দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি তিনি সমর্থন দেন।

১৯৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ভাসানী। এছাড়া পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

ভাসানী আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন। এই আওয়ামী মুসলিম লীগ পরবর্তী সময়ে হয় আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক জীবনে পরে তিনি গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

মজলুম জননেতা হিসেবে খ্যাত মওলানা আবদুল হামিদ খান ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে তার জন্ম হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here