জনশক্তি রপ্তানি কমায় আগামী বছর রেমিটেন্স ধসের শঙ্কা

45

করোনার ভয়াবহতায় বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসায় বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে মারাত্মক ধস নেমেছে। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর জনশক্তি রফতানি নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে। অথচ প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। এ অবস্থায় চলতি বছর রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে রেকর্ড হলেও আগামী বছরে ধস নামার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনিতেই করোনা সংক্রমণে বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব বিপর্যস্ত। এখনো সেই রেশ কাটেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশের জনশক্তি রপ্তানিতে। চলতি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৯ জন। অথচ তার আগের বছর এই সংখ্যা ছিলো ৬ লাখ ৩৪ হাজার ১২৪ জন। এর বাইরে করোনা সংক্রমণ এড়াতে গত ১০ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে এক লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ফিরে আসেন।
চট্টগ্রাম শ্রম ও জনশক্তি রপ্তানি কার্যালয় উপ পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘প্রবাসীরা সীমিত আকারে প্রবাসে যাচ্ছেন। ওই দেশের বিধি-নিষেধ বিভিন্ন কারণেই কোভিডকালীন আমাদের কর্মীরা কম যাচ্ছে।’

জনশক্তি রপ্তানিকারক জেলাগুলোর মধ্যে প্রতি বছরই চট্টগ্রাম থাকে প্রথম সারিতে। গত বছর চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন দেশে ৩৪ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিক গেলেও চলতি বছর শ্রমিক গেছে মাত্র ১০ হাজার ৮৬১ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচের দেশ ওমান এবং সৌদি আরব গেছেন সিংহভাগ শ্রমিক। কাজের সন্ধানে ওমানে গেছেন ৪ হাজার ৭০ জন। আর সৌদিআরবে ৬ হাজার ২৪২ জন শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রবাসী রেমিটেন্স আয়ে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম। গত বছর বাংলাদেশের রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ৮২০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু চলতি বছর তা ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে জনশক্তি রপ্তানিতে ধস নামায় আগামী বছরের রেমিটেন্সে তার প্রভাব পড়ার শংকা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বের ১৭৩টি দেশের সাথে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির চুক্তি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়া ইউরোপের হাতেগোনা কয়েকটি দেশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here