মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

91

ডেস্ক রিপোর্টঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি ৬৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

তিনি টেকনাফ কুলাল পাড়া নিবাসী বৃহত্তর টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মরহুম সাইফুল মুল্লুক চৌধুরীর বড় সন্তান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন টেকনাফ থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় ছাত্রনেতা মো: কামাল, সেলিম উল্লাহ, আব্দুর রহমান, রফিকুল কাদেরসহ অন্যান্যদের সাথে নিয়ে টেকনাফে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত তৈরী, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাদ্য, রসদ- গোলাবারুদ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করতেন। পাকিস্থানীদের অত্যাচারের তীব্রতা বেড়ে গেলে কিছু দিন মিয়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে দায়িত্বের খাতিরে এলাকায় ফিরে আসেন।

 

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ১১ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তৎকালীন এমএনএ এডভোকেট নুর আহমদের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসভায় টেকনাফ থানায় থাকা পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে মানচিত্র খচিত স্বাাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অসীম সাহসের পরিচয় দেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষনে সকাল ১০ টায় টেকনাফ ডাক বাংলা কুলাল পাড়া মোড় হতে ঠেলা গাড়ীতে নৌকা উঠিয়ে সেই নৌকায় মাঝি সেজে দাড়ঁ নিয়ে একটি জীপ গাড়ী দিয়ে টেনে টেনে স্বাধীন বাংলার প্রথম মিছিলটিও সবার নজর কেড়েছিলো সেই দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শুরুর দিকে টেকনাফ শহরে ছাত্রলীগের প্রতিটি মিছিল সমাবেশের মধ্যমনি থাকতেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পড়ালেখার পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যার পর তিনি ১৯৭৭ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান । ১৯৮৮ সালের দিকে দেশে এসে আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। ওই সময় তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি সৌদি আরব অতিবাহিত করলেও ২০১৭ সালে দেশে ফিরে আসেন।

এদিকে তারঁ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে টেকনাফ পৌরসভাস্থ নিজ বাড়ীতে খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here