নির্বিঘ্নে আসছে মাদক, কারবারিদের অবস্থান জানতে চায় অধিদফতর

49

এ বছরের শেষ ৪ মাসে বিগত মাসগুলোর চেয়ে যেকোন ধরণের মাদকদ্রব্যের চালান বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অধিদফতর বলছে, গত চার মাসে ইয়াবাসহ যেকোন ধরণের মাদক দেশের বিভিন্ন জায়গায় আগের চেয়ে বেশি জব্দ করা হয়েছে। এসব চালানের বিপরীতে মামলার সংখ্যা এবং গ্রেফতার বেড়েছে। তবে কমেনি চোরাচালান।
এমতাবস্থায় চোরাচালান রোধে কারবারিদের অবস্থান শণাক্তে মোবাইল ট্র্যাকার চায় অধিদফতর।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অধিদফতরের অনুকূলে এখন পর্যন্ত কোনও মোবাইল ট্র্যাকার নেই। মোবাইল/লোকাল ট্র্যাকার না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। ঘটনাস্থলের আশেপাশে গেলেই টের পেয়ে সটকে পড়ছে কারবারিরা। মোবাইল ট্র্যাকার থাকলে, আসামি ধরার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের সহজেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো। আসামিদের সঙ্গে মূল হোতাদের যোগাযোগের সূত্রও পাওয়া যেতো। কিন্তু মোবাইল ট্র্যাকার না থাকায় বহনকারীদের সঙ্গে যে মূল হোতাদের যোগাযোগ হচ্ছে, সেটা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে গোপনই থেকে যাচ্ছে। তাই অধিদফতর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মোবাইল ট্র্যাকার চেয়ে আবেদেন করেছেন তারা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মোবাইল ট্র্যাকার নেই। অভিযানের ক্ষেত্রে মোবাইল ট্র্যাকার প্রয়োজন। এটা কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। হাতে পেলে মাদক ব্যবসায়ী ধরতে অভিযানসহ বেশ কিছু সুবিধা পাবো।’

এদিকে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব তৈরির বিষয়েও কাজ করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একজন মাদক ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন জব্দের পর সেই মোবাইল ফোনে মাদকের বিষয়ে কার কার সঙ্গে কথা হয়েছে। আরও চালান কোথায় আসছে। কী কী তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। এসব বিষয়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। এতে খুব সহজেই মাদক চোরাচালানের মূল গডফাদারদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। যা মাদক নির্মূল করার কাজে সহযোগিতা করবে।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র বলছে, হঠাৎ করে আবার সারাদেশে মাদক চোরাচালান বেড়ে গেছে। গত আগস্টে সারাদেশে অভিযান পরিচালনা হয়েছে ৭ হাজার ২০১টি। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে এক হাজার ৯৭৪টি। আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজার ৯২ জন। অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৩১৯ পিস। হেরোইন উদ্ধার হয়েছে এক দশমিক ১৪ কেজি। ফেনসিডিল ২ হাজার ৪৭৮ বোতল। অক্টোবরে সারাদেশে অভিযান চালানো হয়েছে ৬ হাজার ৭২৯টি। এতে মামলা হয়েছে এক হাজার ৭৭৩টি। আসামি গ্রেফতার হয়েছে এক হাজার ৮৯৮ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫৩ পিস। নভেম্বরে অভিযান চালানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৮০টি। মামলা হয়েছে এক হাজার ৭৭৩টি। আসামি গ্রেফতার হয়েছে এক হাজার ৯১০ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৯ পিস।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক গোয়েন্দা রামেশ্বর দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও ধরনের মাদক চোরাচালান বেড়ে গেছে। একই কৌশলে পুরনো ব্যবসায়ীরাই মাদক পাচার করছেন। আমাদের অভিযানও বেড়েছে। নিয়মিত আটক করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রোপলিটন উত্তর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখন প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার পিসের ইয়াবা চালান ধরা পড়ছে।
মূলত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ মাদক বেশি আসছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here