টেকনাফে রাখাইন স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনে শেষ হল বছর

145

কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক কলহের জেরধরে বার্মাইয়া রাখাইন স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্থানীয় ৩সন্তানের জননী ছুরিকাঘাত হয়ে নিহত হয়েছে।

আজ ৩১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২:১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে এ খুনের ঘটে।

ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আনুমানিক দুপুর পোনে ২টার দিকে উপজেলার হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে উছিংগ্যার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪৩) এবং স্বামী বার্মাইয়া উক্য ওয়ান এর সাথে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর বুকের দুই পাশে, তলপেট ও হাতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে সে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায়।
ছুরিকাঘাত হয়ে পড়ে গেলে তাদের ২য় ছেলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় মা’কে দ্রুত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তাক্ত নারীকে মৃত ঘোষণা করে।

এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পারিবারিক কলহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গ্রাম সর্দারসহ স্থানীয় মুরুব্বীদের সাথে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাতক স্বামী আটক এড়াতে পালিয়ে যায়। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পানখালী পাহাড়ি ঢালায় আত্মগোপনের খবর পেয়ে উপস্থিত জনসাধারণের সহায়তায় ঘাতক স্বামীকে জনৈক জাফরের পেয়ারা বাগান থেকে আটক করে।

রাখাইন পল্লীর সর্দার মাষ্টার মংথিং অং জানান, ঘাতক স্বামী ছোটকাল হতে বার্মা থেকে এসে এই গ্রামে বসবাস করছিল এবং নিহত মহিলার সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৩জন সন্তানের আগমন ঘটে। এরপূর্বেও ঘাতক স্বামী তার স্ত্রীকে দুইবার ছুরিকাঘাত ও গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করে দেওয়া হয়। এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক তবে ঘাতক স্বামীকে সাথে সাথে আটক করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে ঘাতক’কে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here