বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে রোহিঙ্গারা; তোয়াক্কা করছে না প্রশাসনকেও!

47

ডেস্ক রিপোর্টঃ

সাহায্যের জন্য এক সময় হাত পেতে থাকা রোহিঙ্গারা এখন প্রশাসনের কথাও ঠিকমত শুনতে চান না। বরং তারা অনেক সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত কাজকর্ম করেন। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া যায়না বলে একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ছে খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই সুযোগে দিন দিন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা।

লেদা রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি এখানে চাকরী শুরু করেছি আনুমানিক ৯ মাস হচ্ছে। প্রথম দিকের রোহিঙ্গাদের আচার-আচরণ আর বর্তমান অবস্থার মধ্যে অনেক পরিবর্তন যা চোখে পড়ার মতো। তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে সেটা স্বীকার করতেই হবে। এই ক্যাম্পে আগে রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গারা থাকতো! ২০১৭ সালে ঢলের সাথে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আসাতে এখন ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ খুবই কঠিন। এখানে প্রতিনিয়ত ছোটখাট কিছু সমস্যা লেগেই থাকে। যেমন-গত সপ্তাহে এক রোহিঙ্গা যুবক সরকারি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মারধর করে। আমি গিয়ে তাকে ধমক দিয়ে বারণ করলে সেই রোহিঙ্গা যুবক কৌশলে ঠিকাদারকে তার আন্ডারে কিছু শ্রমিক দেয়ার কথা বলে যাদেরকে সে তার ইচ্ছামত বেতন ভাতা দেবে। বিষয়টি অবগত হলে তাকে ডেকে পাঠালেও সে আর অফিসে আসেনি বরং বাইরে থেকে অনেক সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করেছে।

অন্যদিকে, কিছু দিন আগে ৫/৬ জন রোহিঙ্গা নারী টাকার ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে মারামারি করলে তাদেরকে অফিসে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় তারা আমাদের সামনেও চরম খারাপ আচরণ করে। এমনকি আমাদের কোন কথাই তারা শুনতে রাজি নয়।

বিষয়টি নিয়ে আমি আইনশৃংখলা বাহিনীর এক সিনিয়র কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে তিনিও হতাশ হয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএন এর সদস্য রাসেল জানান, আমরা এখানে অনেক দিন ধরে কাজ করছি। প্রথম দিকে, রোহিঙ্গাদের আচরণ আর বর্তমান আচরণের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। রোহিঙ্গাদের হাতে এখন নগদ টাকার অভাব নেই। তাই তারা অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে গেছে।
তার সাথে কাজ করা আরেক পুলিশ সদস্য জানান, মাঝেমধ্যে মনে হয় রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয়ের জন্য নয়, অন্য কিছুর জন্য এসেছে। তারা এখন আশ্রিত নয় বরং আমাদের উপর শাসন করতে এসেছে। আমি মনে করি সরকারের উচিত এখনই রোহিঙ্গাদের লাগাম টেনে ধরা। অন্যথায়, ভবিষ্যতে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে কিছু কথিত এনজিও কর্মকর্তা প্রায় সময় রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে! তাদেরকেও নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি।
নাসরিন নামের এক এনজিও কর্মী জানান, আমাদের সাথে ১০/১২ জন রোহিঙ্গা নারীও একই এনজিওতে কাজ করে। সেখানে নানান কাজে রোহিঙ্গা মেয়েরা উল্টো আমাদের শাসন করতে চায়। এছাড়া কাজ করতে গিয়ে ছোটখাট কোন সমস্যা হলে তারা ফোন করে তাদের পুরুষ রোহিঙ্গা, মাঝিদের নিয়ে আসে এবং আমাদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা কথায় কথায় হুমকি দিয়ে বলে তাদের কারণে আমরা চাকরী পেয়েছি! তাই তাদের সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবেনা।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আমার জানা মতে সেখানে কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে এটা ঠিক রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here