বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মহেশখালিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে টেকনাফ উপজেলা ফুটবল দল

80

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফঃ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় মহেশখালীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন টেকনাফ উপজেলা ফুটবল টিম।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে উভয় দলই নিজেদের বেস্ট লাইনআপ নিয়ে মাঠে নামে।

খেলার প্রথম ১৫ মিনিট আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে চলছিল। এরপর বেশ গুছিয়ে মাঠে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রদর্শন করতে থাকে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের খেলোয়াড়রা। যার ফলশ্রুতিতে দলের কাঙ্খিত প্রথম গোলের দেখা পায় দলটি। ম্যাচের ১৭ মিনিটে স্ট্রাইকার দিদার শূণ্যে বল পেয়ে ডি-বক্স থেকে দারুণ এক শটে গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেয়। ১ গোলে পিছিয়ে থেকে চরমভাবে জ্বলে ওঠে মহেশখালীর ফরোয়ার্ডরা। দলকে সমতায় ফেরাতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে দেয়নি। ২৩ মিনিটে মহেশখালী ১০নং জার্সিধারী নাইজেরিয়ান বাবেক কর্ণার শট থেকে বল পেয়ে টেকনাফের জালে বল পাঠিয়ে দেয়। তার গোলে শঙ্কামুক্ত হয় মহেশখালী শিবির। ১-১ গোলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে মহেশখালী। ম্যাচের ৫১ মিনিটে দলটির ১২নং জার্সিধারী আবিদ প্রতিপক্ষের রক্ষণ শিবিরের পাহারাদারদের বোকা বানিয়ে একাই ঢুকে পড়ে ডি-বক্সে। এসময় গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে আলতোভাবে বল জালে পাঠিয়ে দেয়। ১ গোলে লিড নেয় মহেশখালী টিম এবং তাদের উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ হয়। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ ঠিকে থাকেনি । ৭০ মিনিটে মহেশখালীর বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেয় ম্যাচ রেফারি। পেনাল্টি থেকে সহজ গোল করে ২-২ গোলে সমতা ফেরায় টেকনাফের হয়ে খেলতে আসা আরেক বিদেশী খেলোয়াড় রবিন। তবে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় মহেশখালীর রিজার্ভ লাইনের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচের অন্তিম ১০ মিনিট। দু’দলই গোল পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। ৭৫ মিনিটে কপাল পুড়ে ভাল খেলতে থাকা মহেশখালীর। টেকনাফ টিমের ১০নং জার্সিধারী জাহাঙ্গীর মহেশখালীর গোলরক্ষককে একা পেয়ে সহজ গোল করে ব্যবধান বাড়ায় ৩-২ তে।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে শুরু হয় নতুন নাটকীয় পরিস্থিতি। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে মহেশখালীর ফরোয়ার্ড আরিফ ও আলাউদ্দিন টেকনাফের ডি-বক্সে ঢুকে শট নেয়াকালে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজায়। রেফারির অফসাইডের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এমন অভিযোগে কোচ এবং টিম ম্যানেজারের কথায় মাঠ ত্যাগ করে মহেশখালীর খেলোয়াড়েরা। পরে আয়োজক কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটির অনুরোধে পুনরায় ম্যাচ শুরু হয়। কিন্তু সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয় মহেশখালী উপজেলা টিম। ফলে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

ম্যাচসেরা হয়েছেন মহেশখালী উপজেলা দলের ৭নং জার্সিধারী খেলোয়াড় আরমান। খেলা শেষে তাকে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের ট্রফি তুলে দেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আফাজ উদ্দিন, টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ হেলাল উদ্দিন কবির ও মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক আহসান সুমন।

টেকনাফ উপজেলা টিম: ফয়সাল, ইব্রাহিম, তৈয়ব, এনাম, মকবুল, দিদার, এমেকা, জাহাঙ্গীর, রবিন, জেমস, মাইকেল, শেখ আহমদ, শাওন, কাইছার, নুরুল ইসলাম, মনজুর, হানিফ, মামুন।

ম্যানেজার: জিয়াউর রহমান। কোচ: বাবুল শর্মা।

মহেশখালী উপজেলা টিম: সাইফুল, আনোয়ারুল আজিম, মোরশেদ, বাবেক, আরমান, সাইমন, আবিদ, আরিফ, আলাউদ্দিন, আব্বাস, এসফাক, আশেক, সজিব, সোহরাব, ফারুকী, সেকাব, অমিত, আশিষ, শেখ রাসেল

ম্যানেজার: ইমরান উল্লাহ। কোচ: শামসুল আলম রনি।
ম্যাচ রেফারিঃ ছৈয়দ করিম, সহকারি রেফারি আনিসুল হক, সুমন দে ও হ্লা হ্লা কিং।
রবিবার (১৭ জানুয়ারী) বিকাল ৩টায় মুখোমুখি হবে সদর উপজেলা বনাম পেকুয়া উপজেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here