মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় টেকনাফ!

108

শনিবার কলঙ্কের মুকুট মাথায় নেয়া টেকনাফের বিশেষ দিন, ইতিহাস গড়ে নেওয়া একটি মহা পরিশুদ্ধির দিন। চুপসে যাওয়া বেলুনের মতন নিজেদের অহংবোধ, প্রভাব-প্রতাপ উবে যাওয়ার দিন। ইয়াবা ব্যবসার কফিনে শেষ পেরেক টুকে দেওয়ার দিন। হ ভাইসাব, আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় ও পুলিশ প্রধান ডক্টর জাবেদ পাটোয়ারি সাহেব অপয়া জনপদ টেকনাফে পায়ের ধুলো নিয়ে পরাণের ডরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সমর্পিত ব্যবসায়ীদের উলুধ্বনি দিয়ে আত্মশুদ্ধির পথ বাতলে দিবেন। কয়েকদিন ধরে টেকনাফের অলিতে গলিতে এরকম খবরই বিলি করে মাইকিং হচ্ছে, আরো বলছেন কোনো ছোট বড় মাঝারি মানের ইয়াবা ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে বাক্স পেটরা নিয়ে পাইলট স্কুলের মাঠে হাজিরা হতে। সেকারণে আমি আগবাড়িয়ে আশার বাণীগুলো শুনিয়ে রাখলাম। হতে পারে আমি যা যা বলছি, এর একটিও না ঘটতে পারে কিংবা সুচারুরূপে ঘটতে পারে, তবে মন থেকে চাইছি সবকিছু চাঁছাছোলাভাবে ঘটুক। গত দশটি বছর যেভাবে দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, অনেকে জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম লিখিয়ে সাধারণ মানুষের উপর রাম রাজত্ব চালিয়েছে, কেউ ভুুল করেও চিন্তা করেননি এদিনের শেষ কবে। আমি কিন্তু বরাবরই বলে এসেছি এই কালো দিনের শেষ একদিন হবেই হবে এবং অবশ্যই হবে। সেসময় বন্ধুমহলের অনেকে চ্যাংড়ামি বা ঠাট্টা মশকরা করে আমার কথার ওজন কমিয়ে আমাকে কোনঠাসা করে রাখতো। আমি সেভাবে তর্কে না জড়িয়ে পানসে মুখে সয়ে নিয়ে আলোর প্রহর গোনেছি। আসছে শনিবারটার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে সবকিছু সজ্ঞানে স্কিপ করেছি। তারপরও বিবেকের তাড়নায় ৮-৯ বছর ইয়াবার বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্নভাবে লিখে গিয়েছি। যার কারণে অনেক খ্যাতনামা ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েছি, সমাজে বহুজন তেরছাচোখে দেখেছে, নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছি, আমার পরিবার আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও থেমে থাকিনি, ভয়ে তটস্থ হয়নি। এখন খুব ইচ্ছে করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সামনে বসে থাকা ফ্যাকাশে চেহারাগুলোকে একঝলক দেখতে এবং মিডিয়ার ক্যামেরাগুলি যখন তাদের দিকে তাক করিয়ে কিককিক করে ফ্লাস মারতে থাকবে তখন ভ্রু কুঁচকিয়ে চিবুক নিচু করে রাখা মুখগুলোর সামনে থাকতে। সেই সুযোগ হয়তো হয়ে উঠবে না। সত্যি কথা বলতে কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে আমার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা রেষারেষি আছে বলে তাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি কিংবা সময়ে অসময়ে বিরোধাত্নক আচরণ করি আদতে তা নয়। স্রেফ নৈতিকতা মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রতিনিয়ত দংশন করতো বলে, নিজের জ্বালাযন্ত্রণা আঙ্গুলের খোঁচায় উগরে দিতাম। কিছুটা প্রশান্তিও পেতাম। আমি সবসময় চেয়েছি এর একটি হেস্তনেস্ত হোক ভালোভাবে। আমি চাই গভর্নমেন্ট একাজটি ভালো ভালোই করুক, অন্তত এখানটাই সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব বা সদিচ্ছার প্রমাণ রাখুক, ইয়াবা নামক সামাজিক ক্যান্সারকে সমূলে উৎপাটন করুক। এরপরও কিছু প্রশ্নবোধক চিহ্ন থেকেই যায়। প্রশাসন এখনও খোলাসা করেনি আত্মসমর্পণ করা মানুষগুলোকে কীভাবে পুনর্বাসন করে রাস্তাঘাটে বৈধভাবে হাঁটাচলার সার্টিফিকেট দিবে বা তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের কী সুরাহা হবে। প্রত্যাশা করছি প্রশাসন জাতির সামনে প্যানডোরাস বাক্স উন্মুক্ত করে উদাহরণযোগ্য সিদ্ধান্তের অবতারণা ঘটিয়ে ইতিহাসের স্বর্ণ পাতায় জায়গায় করে নিবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here