টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন যারা

641

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাত পেরোলেই শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেকনাফ উপজেলা শাখার সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরী হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্মেলন ও অধিবেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা ব্যক্ত করেছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

এ সম্মেলন বর্তমানে পাখির চোখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। রূপান্তর টিমও এ সম্মেলনের আদ্যোপান্ত বের করতে তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চমহল পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য।

এদিকে গত ২৩ তারিখ অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা ছাত্রলীগের বিশেষ টিমের কাছে সভাপতি ও সম্পাদক পদে দুই ডজনের উপরে প্রার্থী মনোনয়ন পেতে নিজেদের বায়োডাটা প্রদান করেন। সভাপতি পদে মনোনয়ন পেতে বায়োডাটা প্রদান করেন- সাইফুল ইসলাম মুন্না, তারেক মাহমুদ রনি, ইমরান আহমেদ, হামিদুর রহিম হামিদ, মোঃ রফিক, রুহুল আমিন, আনোয়ার সিফাত ও জিয়া উদ্দিন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পেতে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন- আব্দুল বাসেদ, সৈয়দ আমিন নিশান, শহীদুল ইসলাম সোহেল, মোঃ শাহীন, সাইফুল ইসলাম সোহাদ, জামাল উদ্দিন, তারেক মোঃ নূর, মনজুর আলম, মোঃ মাসুদ, মোঃ বেলাল, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোঃ নাছির, সাদ্দাম হোসেন, মোঃ আরিফ জয়, মোঃ তারেক, মোঃ ফরহাদ, হাফেজ উল্লাহ, মিজানুর রহমান, প্রশান্ত আচ্ছর্য, আহাম্মদ উল্লাহ, বেলাল উদ্দিন, মোঃ মোস্তফা, হাফেজ নুর কামাল, বাবলা, ইমরান চৌধুরী, আরিফ মোঃ আনাস ও শেখ রাসেল।

টেকনাফ উপজেলার ইতিহাসে এবারই সর্বাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সরব উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। কিন্তু মনোনয়নের দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন গুটি কয়েকজন। সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছে- বর্তমান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মুন্না ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক মাহমুদ রনি। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করেন তৃণমূল ছাত্রলীগ। তবে এ দুই প্রার্থীর বিপক্ষে কথাও বলছেন ছাত্রলীগের একাংশ।

উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুন্নার প্রসঙ্গে হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাছির বলেন, অপ্রিয় হলেও সত্য সাইফুল ইসলাম মুন্না ভাই ধারাবাহিক ৩ মেয়াদে ৮-১০ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছে যা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। পাশাপাশি উনি দায়িত্ব থাকাকালীন উপজেলার প্রায় ইউনিটে পাল্টা কমিটি করে অন্তঃদ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখেছেন। আশা করি, এবারের সম্মেলনে ত্যাগীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন মুখ আসবে উপজেলা ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক মাহমুদ রনি প্রসঙ্গে পৌরসভা ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম রায়হান বলেন, নিঃসন্দেহে রনি ভাই ছাত্রলীগের একজন ত্যাগী কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি একজন নিয়মিত ছাত্র নন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সসীমা ২৯ বছর পার হয়ে তিনি ৩২-এ পা দিয়েছেন। তাই তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে অযোগ্য।

এই যদি হয় অবস্থা- সভাপতি পদে চমক হিসেবে দেখা মেলতে পারে নতুন মুখ। এদিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম সারির সম্মুখযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ইমরান আহমেদ ও টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হামিদুর রহিম হামিদ।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নে এগিয়ে রয়েছেন ৫জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেদ, জেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আমিন নিশান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী শহীদুল ইসলাম সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানের একান্ত আস্থাভাজন মিছবাহুল বাবলা ও হোয়াইক্যং দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।
এ ৫ জন থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা মেলতে পারে ধারণা করেন তৃণমূল ছাত্রলীগ ও সচেতন মহল।

এদিকে আগামীকালের সম্মেলন প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মতে সফল সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে। জেলা ছাত্রলীগ সর্বদায় মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত কমিটি গঠনে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে নিয়মিত ছাত্র ও প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে আশাবাদী বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here