লোককলার সন্ধানে। বাঁচাও, তবে বাঁচবে!

এহ্সান উদ্দিন, লেকচারার, কক্সবাজার সিটি কলেজ।

392

রূপান্তর ডেস্কঃ

আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছে গ্রামীণ ও শহুরে জীবন। শহরটা চকচকে স্থাপত্যকর্মে ঠাসাঠাসি হলেও বলা হতো গ্রাম্যধর্ম পুরোপুরি প্রকৃতিজাত। একসময় গ্রামে মানুষের মনে সারল্য, সৌহার্দ, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা ও আতিথ্য গাঢ়ভাবে আবিষ্ট থাকলেও এখন প্রযুক্তির বদৌলতে গ্রামে শহুরে বা উলঙ্গ সংস্কৃতির ছড়াছড়ি বিস্নয়জাগানিয়া। বিয়েবাড়িতে পালাগান, কাওয়ালির আসর জমতো সপ্তাশীতি, রাতবেরাতে ঢেঁকির ধুপ্পুরধুপ্পুর শব্দ, বর্ষাকাল ব্যতিরেকে সব ঋতুতে ধবধবে জোছনার পহরে কাবাডি, লুকোচুরি, কানামাছি, বৌছি, রাজা-বাদশা, কান-ফিসানি, কুতকুত, ডাংগুলি, গোল করে বসে রাক্ষস খোক্কসের হৃদয়হরিণী কিচ্ছা, ভূত-পেত্নী সেজে পাড়া মহল্লায় ঘুরেবেড়িয়ে ডর দেখানো একসময়কার রোজকার ব্যাপার ছিলো। বিশেষ করে কুরবানি ইদে মাটেঘাটে, বিলেঝিলে বাচ্চাকাচ্চা জোয়ান ছেলেমেয়েরা কতোরকমের খেলাধুলায় মত্ত হয়ে হৈ চৈ-এ মাতিয়ে রাখতো আবহমান গ্রামবাংলার বিশিষ্টতা, আজ তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনালোচ্য বিষয়, আজ ৫ বচ্ছরের ছোট্টছোট্ট শিশুরাও অর্থচিন্তায় বিভোর, সদা কর্পোরেট ভাবনা গায়ে মাখিয়ে দিনগুজারে মগ্ন থাকে আবালবৃদ্ধবনিতা। শনশন করে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামজ সংস্কৃতির কথা ভেবে চিন্ময় বাঁচা মিঞার শ্যেনদৃষ্টি নাফের ওপারে গিয়ে হারিয়ে যায় হা-হুতাশে। ছেঁড়া কাগজে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় লোকশিল্পের সোনায় মোড়ানো গ্রামীণ ঐতিহ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here