রায়হান হত্যাঃ আলামত নষ্টের অভিযোগে এসআই হাসান বরখাস্ত

160

পুলিশি নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন আহমদ (৩৪) হত্যার ঘটনার আলামত নষ্টের অভিযোগে সিলেটের বন্দর বাজার ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ বুধবার বিকেলে এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

ডিসি আরো বলেন, ‘রায়হান হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দর বাজার ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ (সাময়িক বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ফাঁড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগে এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রায়হান হত্যার ঘটনার পর বন্দর বাজার ফাঁড়ির সিসিটিভির ফুটেজ রেকর্ড হওয়া কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বদলে নতুন হার্ডডিস্ক লাগানো হয়। নতুন হার্ডডিস্কটি নগরীর জিন্দাবাজারের একটি মার্কেট থেকে তড়িঘড়ি করে ঘটনার দিন কেনা হয়। এরপর থেকে ফাঁড়ির কম্পিউটারের পুরোনো হার্ডডিস্কটি পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে রায়হান উদ্দিন আহমেদ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম আজ বুধবার দুপুরে শেষ হয়েছে। আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ার আগেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এলাকাবাসী ও রায়হানের পরিবার।

নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, রায়হানের পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পরের দিন শুক্রবার বাদ জুমা বিভিন্ন মসজিদে রায়হানের জন্য দোয়া মাহফিল এবং শনিবার বিকেল ৪টায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন।

সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন আহমদকে (৩৩) গত ১০ অক্টোবর রাতে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে। পরের দিন ১১ অক্টোবর সকালে তাঁর লাশ পায় পরিবার। পরে ওই দিন রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্বজনদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা না পেয়ে রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ১২ অক্টোবর ওই ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যাহার করা হয় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে। এসআই আকবর এখন পলাতক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here