আবারো সক্রিয় হচ্ছে জেএমবি

79

কম শিক্ষিত এবং নিম্ন আয়ের তরুণদের জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আবারও পুরনো ধারায় ফিরতে শুরু করেছে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। মগজ ধোলাই থিউরির মাধ্যমে এবার তারা কিশোরদেরও নিজেদের সংগঠনে সম্পৃক্ত করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে গ্রেফতার হওয়া ১০ জঙ্গির আদালতে দেয়া জবানবন্দি এবং পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য সাদেক এবং মঈনুদ্দিন। পুলিশের খাতায় বয়স ১৯ ও ২০ বছর। ইতোমধ্যে আয়ত্ব করে নিয়েছে জঙ্গি তৎপরতার সবকিছুই। গত দু’বছর ধরেই চলছিল তাদের প্রশিক্ষণ। পুলিশ বক্সে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের প্রথম মিশনও সফলভাবে শেষ করেছে। অন্যান্য হামলাগুলোর জন্য নব্য জেএমবি উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সম্পৃক্ত করলেও এখন তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে।
সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট উপকমিশনার হামিদুল আলম বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে; তারা খুবই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। কারও বাবা তরকারি ব্যবসা করে, আবার কেউ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

পুলিশ বক্সে হামলায় জড়িত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনকেই গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এক্ষেত্রে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠায় কিশোর ও তরুণদের নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে তারা।
সিএমপি কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, তারা মনে করছে, শরিয়া আইনটা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এতে সাধারণ মানুষকে ওয়াজ শুনিয়ে প্রভাবিত করতে চায়।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার সুযোগে তরুণদের জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ নব্য জঙ্গিরা এই সুযোগটা নিতে চায়।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া নব্য জেএমবির ১০ জনই জানিয়েছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং লোহাগাড়া থেকে চলছে বর্তমানে নব্য জেএমবির সব ধরনের কার্যক্রম।তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে শাহজাহান নামে জনৈক সৌদি প্রবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here